| | | |
সংবাদ শিরোনামঃ
মুুক্তিযোদ্ধার জানাযা ও দাফনে বাধা প্রদানের প্রতিবাদে ভেড়ামারায় মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ তাড়াশে হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মিরপুরে মাটি পরীক্ষায় ডিজিটাল সেন্সর ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও ডিভাইস বিতরণ ভেড়ামারায় বিয়ে করতে এসে জরিমানা গুনতে হলো বর কে ভেড়ামারায় আলহেরা মডেল একাডেমী স্কুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মা সমাবেশ ভেড়ামারার পদ্মায় পানির তোড়ে ভেসে গেলো কৃষক ভেড়ামারায় গনধর্ষন/ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে হেরে গেলো তরুনী ভেড়ামারা থানা পুলিশের অভিযানে ৪০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২জন আসামি গ্রেফতার। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মা, দাদু আর একমাত্র ভাই সবাইকে হারিয়ে মহিমার চোখে কেবলই অন্ধকার/ আগুনে ছাই হয়ে গেল মহিমার সব স্বপ্ন
ভেড়ামারায় আওয়ামীলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

ভেড়ামারায় আওয়ামীলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

শাহ জামাল :
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতাকে বাড়ির সামনে থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন ওই আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে। রোববার রাত ১০ টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওয়ামীলীগ নেতা ইন্তাজ আলী শেখের (৪৮) মৃত্যু হয়। নিহত ইন্তাজ আলী শেখ ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধরমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালুর অনুসারী ছিলেন। এছাড়াও তিনি তামাক ও বিড়ি ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১০ টার দিকে আওয়ামীলীগ নেতা ইন্তাজ আলী শেখ তার ছেলে শাকিলকে (২৫) সাথে নিয়ে ব্যবসায়ীক কাজ শেষে ধরমপুর ইউনিয়নের মহিষাডোরা গ্রামে তাঁর নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এক পর্যায়ে বাড়ির গেটের সামনে পৌছালে একদল দুর্বৃত্ত ইন্তাজ ও তার ছেলে শাকিলকে ধরে হাতুড়ি, রড, লাঠিসোটা দিয়ে মারপিট করতে করতে রাস্তায় নিয়ে আসে এবং সেখানেও তাদেরকে বেধড়ক মারপিট করে। এক সময় তাঁরা নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মৃত ভেবে দৃর্বৃত্তরা তাদেরকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আশংকাজনক অবস্থায় পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত ১০ টার দিকে ইন্তাজ আলী শেখের মৃত্যু হয়।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ইন্তাজ আলী শেখ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার আওয়ামীলীগ নেতা ইন্তাজ আলী শেখ ও তার ছেলেকে মারপিটের ঘটনায় পরের দিন ১৭ জনকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। ইন্তাজ আলীর ভাই রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এখন ইন্তাজ আলী শেখ নিহত হওয়ায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের হবে। তবে পুলিশ পূর্বের মারপিট ও নিহতের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি।
হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে ধরমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুল আলম লালু জানান, বিভিন্ন দল থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ইন্তাজ আলী শেখের মত ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামীলীগ নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী এমনকি গোটা ইউনিয়নবাসী এই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আতংকিত এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা অবিলম্বে আওয়ামীলীগ নেতা ইন্তাজ আলী শেখের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। নিহত ইন্তাজ আলী শেখ ধরমপুর ইউনিয়নের মহিষাডোরা গ্রামের মৃত মোন্তাজ আলী শেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইন্তাজ আলী শেখ কিছু দিন আগে অনুষ্ঠিত ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাবুল আলম লালুর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লালু এই ইউনিয়নের পর পর দুই বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে শাহাবুল আলম লালু মাত্র ৫শ ভোটের ব্যবধানে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজের ভাই শামসুল হকের কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে শাহাবুল আলম লালুর পক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরাগভাজন ছিলেন ইন্তাজ আলী শেখ। এছাড়াও বাড়ির সামনের একটি জায়গার দখল নিয়েও ইন্তাজ আলী শেখের সাথে কয়েক জনের বিরোধ চলে আসছিল। ইন্তাজ আলী শেখ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টার পরও ওই জমির দখল পাচ্ছিলেন না। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত প্রায় ৮ মাস আগে ধরমপুর ইউনিয়নের মৎস ব্যবসায়ী দানেজ বিএনপি থেকে যুবলীগে যোগদানকারী জিয়া গ্যাংদের হামলায় নিহত হন। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, কারা কী উদ্দেশ্য এই হামলা ও হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে মোটিভ এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024